এসএসসি পরীক্ষা ২০২৬। বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন- কবিতা: সেইদিন এই মাঠ

· Prothom Alo

বাংলা ১ম পত্র: সৃজনশীল প্রশ্ন

Visit een-wit.pl for more information.

কবিতা: সেইদিন এই মাঠ

# নিচের উদ্দীপকটি পড়ে প্রশ্নগুলোর উত্তর দাও।
চেয়ে দেখি ছাতার মতন বড়ো পাতাটির নিচে
ব’সে আছে

ভোরের দোয়েলপাখি— চারিদিকে চেয়ে দেখি পল্লবের স্তূপ
জাম—বট—কাঁঠালের—হিজলের—অশথের
ক’রে আছে চুপ;
ফণীমনসার ঝোপে শটিবনে তাহাদের ছায়া পড়িয়াছে!

প্রশ্ন

ক. কবি জীবনানন্দ দাশের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ কী রকম?

খ. ‘পৃথিবীর এইসব গল্প বেঁচে রবে চিরকাল।’ উক্তিটি বুঝিয়ে বলো।

গ. উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার সাদৃশ্য তুলে ধরো।

ঘ. ‘উদ্দীপকের প্রকৃতিপ্রেম “সেইদিন এই মাঠ” কবিতায়ও অনুরণিত হয়েছে।’ মূল্যায়ন করো।

উত্তর

ক. কবি জীবনানন্দ দাশের দৃষ্টিতে বাংলাদেশ এক অনন্য রূপসী।

খ. পৃথিবীতে প্রকৃতি চিরকালীন। এখানে সুন্দরের সাধনা, নতুনের আরাধনা চিরকাল চলতে থাকে। পৃথিবীতে কখনো সুন্দরের অভিপ্রায় ও স্বপ্নের আবাহন শূন্য হয় না। সে তার আপন রূপ-রস-গন্ধ নিয়ে চিরকাল বেঁচে থাকে। আলোচ্য চরণটিতে এটিই বলা হয়েছে।

প্রকৃতি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। সে কখনোই তার আপন রূপ-রস-গন্ধ হারিয়ে ফেলে না। সে সব সময়ই তার নিজ বৈশিষ্ট্যকে ধারণ করে চিরকাল প্রাণময় থাকে। প্রকৃতির যে রহস্যময় সৌন্দর্য ও আনন্দের বিস্তার, তার কোনো অবশেষ নেই। প্রকৃতির মধ্যে বিচিত্র গন্ধের আস্বাদ, মৃদুমন্দ কোলাহলের আনন্দ কিংবা পুষ্পের সৌন্দর্য কখনোই শেষ হয় না। প্রকৃতির এসব সৌন্দর্যই গল্প হয়ে পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকবে।

গ. প্রকৃতির যে অপরূপ রূপ–লাবণ্য ‘সেইদিন

এই মাঠ’ কবিতায় প্রকাশ পেয়েছে, তাই উদ্দীপকে ফুটে উঠেছে।

প্রকৃতি চিরন্তন সৌন্দর্যের আধার। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট সবকিছুই প্রকৃতির অংশ। গাছপালা, নদীনালা, আকাশ, বাতাস—সবকিছুই প্রকৃতির অনুষঙ্গ। প্রকৃতির সৌন্দর্য কখনো শেষ হয় না, কখনো শেষ হবে না। মানুষ প্রকৃতির মধ্যে খুঁজে পায় জীবনের সুন্দরকে। প্রকৃতি নিজস্ব নিয়মে মানুষের স্বপ্ন-সাধ ও কল্পনাকে তৃপ্ত করে। ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতা এবং উদ্দীপকে তার প্রমাণ পাওয়া যায়।

উদ্দীপকের কবির কাছে প্রকৃতির সৌন্দর্য ধরা পড়েছে শাশ্বত রূপ নিয়ে। এখানে কবি খুব ভোরে জাগ্রত হন। চারদিকে নিশ্চুপ। ভোরের পাখিরা তখনো ডেকে ওঠেনি। বড় একটা পাতার নিচে বসে আছে দোয়েল পাখি। তার উপস্থিতি কবির চিত্তে সৌন্দর্যের বান ডাকে। উপরন্তু গ্রামবাংলার পল্লবের স্তূপ কবির সত্তাকে উজ্জীবিত করে। ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় কবিও প্রকৃতির সৌন্দর্য বর্ণনা করেছেন। শিশিরের জলে চালতা ফুলের ভিজে ওঠার দৃশ্য কবিকে আনমনা করে। লক্ষ্মীপ্যাঁচা যখন তার প্রিয়ার উদ্দেশে গান ধরে, তখন কবি একজন মুগ্ধ শ্রোতা হয়ে যান। কখনো–বা চরের কাছে খুঁটিতে বাঁধা নৌকা কবিকে উদাসীন করে তোলে। এভাবে দেখা যায় প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করার বিষয়ে উদ্দীপকের সঙ্গে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার সাদৃশ্য রয়েছে।

ঘ. প্রকৃতির গতিময়তা ও অবিনশ্বর সৌন্দর্য চেতনা ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতা ও উদ্দীপকের মূল উপজীব্য।

পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে আজও তা প্রবহমান। প্রকৃতিও নিজস্ব নিয়মে গতিমান। প্রকৃতির এই স্বভাবধর্মকে কেউ উপলব্ধি করে, আবার কেউ এদিকে নজর দেয় না। পৃথিবীতে প্রকৃতি অনবরত সৃষ্টি ও ধ্বংসের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হয়। এভাবেই তার ভারসাম্য রক্ষিত হয়। যেমন মানুষ এ পৃথিবীতে আসে আবার চলে যায়। এতে প্রকৃতির ভারসাম্যে কোনো পরিবর্তন হয় না।

উদ্দীপকের কবি সৌন্দর্যপিপাসু। তিনি ভোরে দোয়েল পাখি দেখেন। ডুমুরপাতার নিচে বসে থাকে দোয়েল। দোয়েলের মাথার ওপর ডুমুরপাতাকে কবির ছাতা বলে মনে হয়। চারদিকে তিনি পল্লবের স্তূপ দেখেন। আর দেখেন, আম-জাম-বট-অশ্বত্থগাছের সমাহার। গাছগুলো দাঁড়িয়ে আছে আর তাদের ছায়া পড়েছে ফণীমনসার ঝোঁপে।

অন্যদিকে ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতার কবিও প্রকৃতির ছবি এঁকেছেন অনুপম রূপে। এখানে খেয়ানৌকাগুলো চরের খুব কাছে এসে থামে। চারদিকে থাকে শান্ত বাতি। লক্ষ্মীপ্যাঁচা তার প্রিয়ার জন্য গান গায় আর কবি তা আনমনে শোনেন। কখনো–বা চালতা ফুল শিশিরের জলে ভিজে উঠলে এর গন্ধের ঢেউ প্রবাহিত হতে থাকে।

উদ্দীপক ও ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় আদি ও অকৃত্রিম রূপে কেবল প্রকৃতির প্রতি গভীর ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। কবিতা ও উদ্দীপকে আমরা প্রকৃতি ভিন্ন অন্য কোনো অনুষঙ্গের উপস্থিতি লক্ষ করি না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে প্রকাশিত প্রকৃতিপ্রেম ‘সেইদিন এই মাঠ’ কবিতায় অনুরণিত হয়েছে।

  • মোস্তাফিজুর রহমান, শিক্ষক
    বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক কলেজ, ঢাকা

Read at source