যে ৫ কারণে সম্পর্কে দেয়াল তোলা জরুরি

· Prothom Alo

অবশ্যই শিরোনামের বক্তব্য সব সম্পর্কের জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে মানসিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সম্পর্ক সীমিত করা, পরিমিতিবোধ টানা, প্রয়োজনে দেয়াল তোলাকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। আর সেটি ‘জাজমেন্টাল’, ‘গসিপ’প্রবণ সামাজিক সংস্কৃতিতে আরও বেশি জরুরি।

সম্পর্ক সীমিত করবেন কীভাবে

সীমিত সম্পর্ক মানে মানুষের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ও পরিমিত যোগাযোগ রাখা। সেখানে মাঝেমধ্যে টুকটাক খোঁজখবর নেওয়াই যথেষ্ট। ‘কেমন আছ?’, ‘কী অবস্থা?’, ‘সময় কেমন কাটছে?’—এর বেশি নয়।

Visit tr-sport.click for more information.

ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোনে কথা বলা, নিজের জীবনের নানা সংবেদনশীল তথ্য, দুর্বলতা ও পরিকল্পনা উজাড় করে দেওয়া সব সময় বুদ্ধিমানের কাজ নয়। কেননা, সবাই আপনার গল্প শোনার যোগ্য নয়।

কেন সম্পর্ক সীমিত করা বা সম্পর্কে দেয়াল টানা জরুরি

১. ভুল মানুষের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা এড়াতে

যাঁদের সঙ্গে আমরা কিছু না ভেবেই খুব বেশি আপন হয়ে যাই, যাঁদের কাছে নিজের দুর্বলতা মেলে ধরি—কষ্টও সবচেয়ে বেশি পাই তাঁদের কাছ থেকে।

সম্পর্ক যত বেশি ‘কাছের’, সেই সম্পর্কে প্রত্যাশা আর চাপও তত বেশি। তাই সবার সঙ্গে আন্তরিকতা নয়। খুব ঘনিষ্ঠতা খুব অল্প মানুষের সঙ্গেই মানানসই।

২. সবার ওপরে নিরাপত্তা

আপনি যত বেশি নিজের দুর্বলতা, ভয় ও ব্যর্থতা, এমনকি নিজের সম্পদ বা শক্তির কথা মানুষকে জানাবেন, সেসবের অপব্যবহার হওয়ার ঝুঁকিও তত বেশি। নিজের গোপনীয়তা বজায় রাখা জরুরি।

কেননা, মানুষ যেটা জানে না, সে বিষয়ে কেউ ক্ষতিও করতে পারে না। সীমা নির্ধারণ করা স্বার্থপরতা নয়। এটি আপনার মানসিক, শারীরিক, এমনকি ডিজিটাল সুরক্ষার জন্যও অপরিহার্য।

৩. দিন শেষে আপনি একা

জীবনে মানুষ আসে–যায়। আপনার জীবন, একান্ত ব্যক্তিগত দুঃখ, কষ্ট, অতীত, লড়াই ও সিদ্ধান্ত—শেষ পর্যন্ত আপনার। দিন শেষে কেবল আপনিই নিজের পাশে থাকেন। তাই বরং নিজের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়ান।

আর ঠিক এ কারণেই সবচেয়ে শক্তিশালী, আত্মবিশ্বাসী, শিখর ছোঁয়া মানুষেরা একা হন। সত্যিকারের সুখী মানুষদের সার্কেল খুবই ছোট। কেননা, তাঁরা আত্মতৃপ্ত, অর্থাৎ নিজেকে নিয়েই সুখী।

৪. সবার সঙ্গে ভদ্রতা, তবে হৃদয় কেবল দু–একজনের জন্য

সবার সঙ্গে সদয় ও ভদ্র থাকুন। কিন্তু নিজের মনের দরজা সবার জন্য খোলা রাখা বোকামি। সীমা না রাখলে মানসিক চাপ বাড়ে।

৫. জীবনে খুব বেশি সম্পর্কের দরকারই নেই

অতিরিক্ত আশা, অধিকারবোধ ও হস্তক্ষেপ আসে তখনই, যখন সম্পর্ক খুব ‘কাছের’ হয়ে যায়। সীমিত সম্পর্ক মানে নিজেকে এসব থেকে রক্ষা করা। আপনি নিজের কাছে আশা করুন। নিজেই নিজেকে খুশি রাখার দায়িত্ব নিন।

শেষ কথা

সবাইকে আপন ভাববেন না। সবাই বিশ্বাসের যোগ্য নয়। আর মানুষ চেনা বড্ড কঠিন। সীমিত সম্পর্ক মানে নিজের মানসিক শান্তিকে প্রাধান্য দেওয়া। আর নিজেকে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকতে নিজেকে জানা ও নিজের সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কোনো বিকল্প নেই।

সূত্র: সাইকোলজি টুডে

যে ১০টি জিনিস ফেসবুকে পোস্ট করলে পস্তাতে হবে

Read at source