যিশুর পুনরুত্থান ও সম্প্রীতির ইস্টার সানডে
· Prothom Alo

আজ পবিত্র ইস্টার সানডে। খ্রিষ্টধর্মাবলম্বীদের কাছে পরম আনন্দের ও তাৎপর্যপূর্ণ দিন। দীর্ঘ ৪০ দিনের কৃচ্ছ্রসাধন বা ‘লেন্ট’ পালনের পর এই মহিমান্বিত দিনে বিশ্বাসীরা উদ্যাপন করেন যিশুখ্রিষ্টের পুনরুত্থানকে।
পুনরুত্থানের মহিমা
খ্রিষ্টীয় বিশ্বাস অনুসারে, মানবজাতিকে পাপ থেকে মুক্তি দিতে ক্রুশবিদ্ধ হয়ে আত্মোৎসর্গ করেছিলেন যিশুখ্রিস্ট। কিন্তু মৃত্যুর তিন দিন পর এই রবিবারে তিনি পুনরায় জীবিত হয়ে ওঠেন। এই পুনরুত্থান প্রমাণ করে যে মৃত্যু বা ধ্বংসই জীবনের শেষ কথা নয়। বরং ত্যাগের মাধ্যমেই প্রকৃত জীবনের সূচনা হয়।
Visit somethingsdifferent.biz for more information.
যিশু যে ভালোবাসার বাণী প্রচার করেছিলেন, তা আজ যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি প্রাসঙ্গিক।
যিশুখ্রিষ্টের মহা আবির্ভাবউৎসবের আমেজ ও রীতি
বাংলাদেশেও অত্যন্ত উৎসবমুখর পরিবেশে দিনটি পালিত হচ্ছে। সকাল থেকেই গির্জায় গির্জায় বিশেষ প্রার্থনা বা ‘ম্যাস’ অনুষ্ঠিত হয়। দেশের প্রতিটি গির্জা আজ ভক্তদের উপস্থিতিতে মুখর।
ইস্টার এগ: এই উৎসবের অন্যতম অনুষঙ্গ হলো রঙিন ডিম বা ইস্টার এগ। এটি নতুন জীবন ও উর্বরতার প্রতীক। পরিবারের ছোটদের জন্য এটি বিশেষ আনন্দের উৎস।
পারিবারিক মিলনমেলা: প্রার্থনার পর বাড়িতে বাড়িতে চলে বিশেষ খাবারের আয়োজন। পিঠা, কেক ও নানা পদের ঐতিহ্যবাহী খাবার ভাগ করে নেওয়ার মাধ্যমে সামাজিক বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।
সম্প্রীতির বন্ধন: বিভিন্ন ধর্ম ও বর্ণের মানুষ একে অপরের আনন্দে শামিল হয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক চমৎকার নজির স্থাপন করেন।
অন্ধকার চিরে আলোর জয়
যিশু যে ভালোবাসার বাণী প্রচার করেছিলেন, তার জন্য তাঁকে বরণ করতে হয়েছিল ক্রুশবিদ্ধ হওয়ার দুঃসহ যন্ত্রণা। কিন্তু সেই মৃত্যুই শেষ কথা ছিল না।
তৃতীয় দিনে তাঁর পুনরুত্থান বিশ্ববাসীকে এই বার্তাই দেয় যে—সত্যকে সাময়িকভাবে অবদমিত করা গেলেও শেষ পর্যন্ত জয় হয় সুন্দরেরই। (পিটার বার্গার, দ্য স্যাক্রেড ক্যানোপি: এলিমেন্টস অব আ সোশিওলজিক্যাল থিওরি অব রিলিজিয়ন, ১২০-১২৫, অ্যাংকর বুকস, নিউ ইয়র্ক: ১৯৬৭)
শুভ ইস্টার সানডে। আলোর পথে যাত্রা অব্যাহত থাকুক।
বিশ্বে সংঘাত দূর হোক, শান্তি নামুক