টিলার ভাঁজে ভাঁজে ছিল সবুজ গাছপালা, এখন অনেকটা ‘কঙ্কালসার’

· Prothom Alo

দুজন ব্যক্তি শাবল দিয়ে অনবরত টিলা খুঁড়ছেন। খোঁড়াখুঁড়ির পর মাটির ভেতর থেকে কোদাল দিয়ে আরেকজন পাথর তুলে টুকরিতে রাখছেন। অন্য একজন মাথায় টুকরি বহন করে কয়েক শ গজ দূরে স্তূপ করে পাথর মজুত করছেন। পরে সেই পাথর ট্রাক্টরে করে পাচার করছিলেন আরও দুজন।

Visit extonnews.click for more information.

গত ২৪ মার্চ বেলা পৌনে তিনটার দিকে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলায় এমন দৃশ্য দেখা গেছে। সরেজমিনে দেখা যায়, শাহ আরেফিন টিলার স্থানে স্থানে ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এসব গর্তের গভীরতা ২০ থেকে ৩০০ ফুট। কোনো গর্তে পানি জমেছে। প্রায় গর্তের পাশেই হেঙ্গার (পাথর তোলার জন্য বাঁশ-কাঠের তৈরি বিশেষ বস্তু) দাঁড় করিয়ে রাখা।

সরকারি খাস খতিয়ানে ১৩৭ দশমিক ৫০ একর জায়গাজুড়ে শাহ আরেফিন টিলার অবস্থান। আড়াই দশক আগেও এখানে উঁচু বড় আকারের দুটি টিলা ছিল। টিলায় মাটির নিচে স্তরে স্তরে ছিল ছোট-বড় অসংখ্য পাথর। এ ছাড়া টিলার আশপাশে আরও প্রায় ৩৫০ একর জায়গায় ছিল পাথর। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকে স্থানটিকে ‘পাথরের খনি’ ডাকতেন। টিলার ভাঁজে ভাঁজে ছিল সবুজ গাছপালা। ২০০০ সালের দিকে টিলা ও আশপাশে পাথরখেকোদের প্রথম নজর পড়ে। এরপরই প্রকাশ্যে অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলতে থাকে।

ইজারা বন্ধ থাকলেও সিলেটে রাতের অন্ধকারে পাথর ও বালু উত্তোলন চলছে

গত আড়াই দশকে শাহ আরেফিন টিলার পাথর ও মাটি সাবাড় করে নেওয়া হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর এখানে দেদার পাথর লুট চলে। এটিসহ সিলেটের অন্যান্য জায়গা থেকে পাথর লুট নিয়ে দেশব্যাপী সমালোচনা তৈরি হলে মাঝখানে প্রশাসনের তৎপরতা বাড়ে। এতে কিছুদিন পাথর উত্তোলন বন্ধ ছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর আবার শাহ আরেফিন টিলায় পাথর লুট শুরু হয়। একসময়ের অনিন্দ্যসুন্দর শাহ আরেফিন টিলা এখন অনেকটা ‘কঙ্কালসার’ হয়ে গেছে।

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম প্রথম আলোকে বলেন, এটা (পাথর উত্তোলন) অনেক যন্ত্রণা দিচ্ছে। একাধিক মামলা হয়েছে। নিয়মিত পাথর জব্দের পাশাপাশি জেল-জরিমানা হচ্ছে। এমনকি পাথরবাহী ট্রাকও পোড়ানো হয়েছে। এরপরও বন্ধ হচ্ছে না। রাস্তায় খুঁটি পোতা হয়েছে, যাতে পাথর নিয়ে ট্রাক-ট্রাক্টর যেতে না পারে। কিন্তু তারা বিকল্প রাস্তা তৈরি করে পাথর নিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আরেফিন টিলা আর টিলা নাই, সমুদ্র বানিয়ে ফেলেছে। ১০০ থেকে ১৫০ ফুট গর্ত বানিয়ে ফেলেছে। পাথরখেকোদের সিন্ডিকেটটা মারাত্মক শক্ত। তবে টিলা এখন যে অবস্থায় আছে, সেটুকু রাখার চেষ্টা করছি। আমরা সেখানে একটা পুলিশ ফাঁড়ি করার জন্য চিঠি দিয়েছি।’

নির্বাচনের পর লুটপাট শুরু

কোম্পানীগঞ্জের দুজন বাসিন্দা জানান, গত বছরের আগস্টে সাদাপাথরে পাথর লুটের বিষয়টি সমালোচিত হলে লুট ঠেকাতে তৎপর হয় প্রশাসন। তবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আবার লুটপাট শুরু হয়। এখনো কিছু কিছু এলাকায় লুটপাট অব্যাহত আছে। শাহ আরেফিন টিলার পাশের একটি গ্রামের পাঁচজন বাসিন্দা বলেন, ঈদের ছুটির আগে টিলা থেকে দেদার পাথর লুট হয়। ছুটির কারণে এখন পাথর তোলার হার কিছুটা কম। ছুটি শেষে আবার পুরোদমে পাথর উত্তোলনের আশঙ্কা আছে। তবে এখনো পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে অনেকে পাথর তোলার পাশাপাশি ট্রলি-ট্রাক্টরে পাথর বহন করে বিক্রি করছেন।

কোম্পানীগঞ্জের ভোলাগঞ্জ, গুচ্ছগ্রাম, পাড়ুয়া, ডাকঘর এলাকার আশপাশে হাজারো পাথর ভাঙার যন্ত্র (ক্রাশার মেশিন) আছে। শাহ আরেফিন টিলা, পাথরকোয়ারি ও বিভিন্ন জায়গা থেকে অবৈধভাবে পাথর এনে মূলত এসব যন্ত্রের মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়। যন্ত্রগুলোর অবস্থান থেকে শাহ আরেফিন টিলা অন্তত চার কিলোমিটার দূরে।
সরেজমিনে গত ২৪ মার্চ দুপুর ও বিকেলে দুই দফায় দেখা গেল, নোয়াগাঁও, বাবুলনগর, জালিয়ারপার, শাহ আরেফিন বাজার, চিকাডহরসহ কয়েকটি গ্রামে বাড়ির উঠোন, ফসলি জমির আশপাশ, উন্মুক্ত স্থান, রাস্তার পাশে পাথরের অসংখ্য স্তূপ। ছোট-বড় ট্রলি ও ট্রাক্টর দিয়ে পাথর পরিবহন করা হচ্ছে। ওই দিন তিন ঘণ্টায় ওই রাস্তায় ২৭টি ট্রলিতে বালু দিয়ে ঢেকে পাথর পরিবহন করতে দেখা গেছে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলা কেটে পাথর উত্তোলন করায় তৈরি হচ্ছে বড় বড় খাদ। গত ২৪ মার্চ তোলা

পাথর ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, শাহ আরেফিন টিলার পাথর প্রতি ফুট ৯০ থেকে ৯২ টাকায় পাথর ভাঙা মেশিনের মালিকদের কাছে বিক্রি করা হয়। তারা সেসব ভেঙে আকার ভেদে ছোট-বড় করে পাথর ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করেন। মেশিন মালিকেরা সিঙ্গেল পাথর ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকায়, হাফ ইঞ্চি পাথর ৭০ টাকায় এবং ৩ বাই ৪ আকারের পাথর ১৬০ থেকে ১৬২ টাকায় প্রতি ফুট বিক্রি করেন। এসব পাথরই পরে সারা দেশে যায়।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কোম্পানীগঞ্জের সাদাপাথর, উৎমাছড়া ও বিছনাকান্দি পর্যটনকেন্দ্রে পাথর লুট পুরোপুরি বন্ধ আছে। তবে ভোলাগঞ্জ পাথর কোয়ারির কালাইরাগ নতুনবাজার ও দয়ারবাজার গ্রামের আশপাশ এবং সংরক্ষিত বাংকার এলাকায় বিচ্ছিন্নভাবে রাতের আঁধারে সীমিত পরিসরে পাথর লুট চলছে। বিশেষ করে বৃষ্টির সময় উজান থেকে পানি নামলে পাথরখেকোদের তৎপরতা বাড়ে। এ ছাড়া জৈন্তাপুর উপজেলার রাংপানি থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত অবৈধভাবে বালু ও পাথর উত্তোলন সীমিত পরিসরে চলছে। কানাইঘাট উপজেলার লোভাছড়া পাথর কোয়ারি থেকেও অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন চলছে বলে স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন।

ধরিত্রী রক্ষায় আমরা (ধরা) সিলেটের সদস্যসচিব আবদুল করিম চৌধুরী (কিম) প্রথম আলোকে বলেন, জাতীয় নির্বাচনের প্রচারণাকালে বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থী পাথর কোয়ারি চালু করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বক্তব্য রেখেছেন। এতে পাথরখেকোরা উৎসাহিত হয়ে আবার পাথর লুটপাট শুরু করে। শাহ আরেফিন টিলায় এখনো লুটপাট চলছে। এটা বন্ধ করতে প্রশাসনের আরও তৎপরতা প্রয়োজন।

লুটপাটে জড়িত যারা

শাহ আরেফিন টিলা এলাকায় পাথর লুটপাটে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা জড়িত বলে স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন। তারা বলেন, বিএনপির উপজেলা পর্যায়ের কিছু প্রভাবশালী নেতা আড়ালে থেকে পৃষ্ঠপোষকতা দেন। আবার বিএনপি ও আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন কিংবা গ্রামপর্যায়ের প্রভাবশালী নেতাদের সরাসরি হস্তক্ষেপেও পাথর লুট ও পরিবহন করা হয়।

সর্বশেষ গত ২০ মার্চ স্থানীয় প্রশাসন, বিজিবি, পুলিশের অবৈধ পাথর উত্তোলনবিরোধী যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। এ সময় ৩৯টি পাথরবাহী ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। তবে পাথরখেকোরা সেদিন পুলিশসহ অভিযান-সংশ্লিষ্টদের ওপর হামলা করে। ঘটনার পরদিন পুলিশ আক্রান্ত হওয়ার ঘটনায় কোম্পানীগঞ্জ থানায় ১৪ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৮ থেকে ১০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়।

মামলার আসামিদের মধ্যে রূপজান বিবি, জাহাঙ্গীর গাজী, মো. বিল্লাল, মো. মাসুক মিয়া, ছালিক মিয়া, আ. কাদির, কালা মিয়া, ফারুক মিয়া, এলাইছ মিয়া, মাসুক মিয়া, সাদ্দাম হোসেন, সোনা মিয়া, আশিক মিয়া, বশর মিয়ার নাম উল্লেখ করা আছে। এসব আসামির শেষ আটজন আওয়ামী লীগের সমর্থক হিসেবে স্থানীয়ভাবে পরিচিত ও একে অপরের ভাই। এ ছাড়া মামলার দুই নম্বর আসামি পাথর ব্যবসায়ী হিসেবে সুপরিচিত।

ভোলাগঞ্জে সাদাপাথর লুট: ৬ দপ্তর ও বেলার কাছে নথি চেয়েছে দুদক

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শাহ আরেফিন টিলা এলাকার পাথর লুটপাট ও পরিবহনে পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ অনেকের বিরুদ্ধেই আছে। এর মধ্যে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক সাজ্জাদ হোসেনের ভাই ও ‘পুলিশের লাইনম্যান’ হিসেবে পরিচিত আজিম আহমদ, ‘পুলিশের সোর্স’ হিসেবে পরিচিত এস কে সোহেল, উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আহমদ, আওয়ামী লীগের সমর্থক আলী হোসেন ও আবদুল করিম উল্লেখযোগ্য।

একসময়ের অনিন্দ্যসুন্দর শাহ আরেফিন টিলা এখন অনেকটা ‘কঙ্কালসার’ হয়ে গেছে

অভিযুক্তদের মধ্যে এস কে সোহেল প্রথম আলোকে বলেন, ‘যে বলেছে, ভুল বলেছে। ৪ মাস ধরে আমি জড়িত নই।’ আজিম আহমদ বলেন, ‘আমার বাড়ি ভোলাগঞ্জ। শাহ আরেফিন আমার লাগা (পাশের) গ্রাম। শাহ আরেফিনে আমার জায়গা নাই, কুনতা নাই। যে কইছে, ভুল কইছে।’ আবদুল করিম বলেন, ‘যে বা যারা এ তথ্য দিয়েছে, সেটা মিথ্যা।’ যুবদল নেতা বাবুল আহমদের মুঠোফোনে কল দিলেও সাড়া না দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিলেট-৪ (কোম্পানীগঞ্জ-গোয়াইনঘাট-জৈন্তাপুর) আসনের সংসদ সদস্য প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘কোনো অবস্থাতেই কেউ যেন অবৈধভাবে পাথর উত্তোলন করতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া আছে। যে-ই করছে, তার বিরুদ্ধেই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এমন শক্ত অবস্থানের কারণে পাথর তোলা বন্ধ হয়েছে। এখনো যেসব ঘটনা ঘটছে, সেটাও রোধ করতে স্থানীয় প্রশাসনকে বলা হবে।’ তিনি বলেন, পরিবেশের ক্ষতি না করে সনাতন পদ্ধতিতে উত্তোলনের জন্য পাথর কোয়ারি আবার চালু করা যায় কি না, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো বসে সিদ্ধান্ত নেবে। বৈঠকে যে সিদ্ধান্ত হবে, সে অনুযায়ী কাজ করা হবে।

অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

শাহ আরেফিন টিলা থেকে পাথর উত্তোলন ও পাচারে পুলিশের সহযোগিতা আছে বলে স্থানীয় অন্তত ১০ জন বাসিন্দা ও পাথর-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী প্রথম আলোকে নিশ্চিত করেছেন। তাঁদের ভাষ্য, শাহ আরেফিন টিলা থেকে ভোলাগঞ্জমুখী রাস্তায় পুলিশের টহল থাকে। তাঁদের ‘ম্যানেজ’ করে পাথর ব্যবসায়ীরা নিয়মিত ট্রলি ও ট্রাক্টর দিয়ে পাথর পরিবহন করেন।

স্থানীয় একটি সূত্র জানিয়েছে, শাহ আরেফিন টিলা থেকে ভোলাগঞ্জ পর্যন্ত প্রতিদিন গড়ে ১০০ ট্রলি পাথর পরিবহন করা হয়। একেকটি ট্রলি দিনে গড়ে ২ থেকে ৩ বার পাথর নিয়ে যায়। প্রতিটি ট্রলি একেকবার অন্তত ৫০ ফুট পাথর পরিবহন করতে পারে। এসব ট্রলিকে প্রতিবার পাথর পরিবহনের জন্য ২০০ টাকা করে টহলরত পুলিশকে ‘উৎকোচ’ দিতে হয়। প্রতি সপ্তাহে একদিন রাতের বেলা ‘ওসির লাইন’ নাম দিয়ে টিলা এলাকা থেকে পাথর ভোলাগঞ্জে সরিয়ে নেওয়া হয়। পাথর-ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিশেষ ব্যক্তিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ‘ম্যানেজ’ করে এই লাইন পরিচালনা করেন। তখন বড় ট্রাক্টর দিয়ে পাথর সরানো হয়। অন্তত ১০০টি ট্রাক্টর গড়ে দুবার পাথর পরিবহন করে।

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার শাহ আরেফিন টিলার কেটে পাথর উত্তোলনের কারণে টিলার চিত্র বদলে গেছে ভয়াবহভাবে

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন প্রথম আলোকে বলেন, সর্বশেষ ১৭ মার্চ ‘ওসির লাইন’ পরিচালিত হয়। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে এ লাইন আনা হয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে প্রচার আছে। ওই দিন রাত তিনটা থেকে সকাল ছয়টা পর্যন্ত ট্রাক্টর নির্বিঘ্নে পাথর পরিবহন করে। এ ছাড়া টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারার একটা অংশ স্থানীয় বিএনপির কিছু নেতাও পেয়ে থাকেন বলে প্রচার আছে।

তবে ‘ওসির লাইন’ কিংবা টাকা দিয়ে পুলিশকে ‘ম্যানেজ’ করে পাথর পরিবহনের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, ‘পাথর তোলা বা পরিবহন টোটাল অফ আছে। আর আমাকে বা পুলিশকে ম্যানেজ করার বিষয়টি কেন এল জানি না। এটা মানুষজন বলতেই পারে। তবে এ নিয়ে সুনির্দিষ্ট ও সঠিক তথ্য দিতে পারবে না। কারণ এটা মিথ্যা তথ্য।’

সিলেটের পুলিশ সুপার চৌধুরী মো. যাবের সাদেক বলেন, ‘পাথর পরিবহনের খবর পেলেই আমরা সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিই। কিছুদিন আগেও ৪০টা পাথরবাহী ট্রাক্টর জব্দ করা হয়। ইউএনওর মাধ্যমে ভ্রাম্যমাণ আদালতও নিয়মিত পরিচালিত হয়। পাথর লুট ঠেকাতে মন্ত্রী (স্থানীয় সংসদ সদস্য আরিফুল হক চৌধুরী) মহোদয়েরও কিন্তু খুব কড়া নির্দেশনা আছে।’

‘উৎকোচ’ নিয়ে পুলিশের পাথর পরিবহনে সহযোগিতা প্রসঙ্গে পুলিশ সুপার বলেন, ‘আপনার ইনফরমেশন হয়তো সঠিক। তবে এ ধরনের অভিযোগ পেলে আমরা সাথে সাথে ব্যবস্থা নিই। নিজেদের অলক্ষ্যেও হয়তো অনেক কিছু হতে পারে। এগুলো অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তবে ভাসা ভাসা কথা না বলে কেউ যদি সুনির্দিষ্ট তথ্য ও অভিযোগ দেন, তাহলে ওই পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Read at source